images

অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমে গেছে জ্বালানি তেলের দাম

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ১০:৩১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি সইয়ের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও তেলবাহী জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল শুরু হওয়ায় টানা পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে জ্বালানি তেলের দামে।

এরই ধারাহিকতায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। একই সময়ে ৪৬ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম।

আগেরদিনই; অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হওয়া। এসব জাহাজের মধ্যে সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কারও ছিল, যেগুলোতে মোট ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল আবার বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বাজারে আরও তেল সরবরাহ বাড়বে।

আরও পড়ুন
gold_20251217_083829169

দেশের বাজারে আবারও কমলো সোনার দাম

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ব্যবসায়ীরা এখনো নিশ্চিত হতে চাইছেন যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সত্যিই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না। নিয়মিতভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে কিছুটা সতর্কতা বজায় থাকবে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কার্যকর থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ পথের বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও পুনরায় নিজেদের রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে জারি করা সব ধরনের জরুরি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। 

সেইসঙ্গে ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ বলেছেন, দেশটির তেলক্ষেত্রগুলো আবার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং ধীরে ধীরে আগের উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে যাওয়া হবে।

ইসরায়েল অবশ্য এখনও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আরটিভি/এসএইচএম