রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ , ১১:১৯ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের দাবির পর তা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ চলছে। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পে-স্কেল ঘোষণার পর কোনো আইনি বা কারিগরি জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় আইনগত যাচাই ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ (ফিক্সেশন) প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তুতিও চলছে।
সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে বর্ধিত বেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবুও ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং পরবর্তীতে বকেয়া (অ্যারিয়ার) হিসেবে সংশ্লিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রাথমিকভাবে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির মুখে তা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি ভাতা পুনর্বিন্যাস বা সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে কর্মস্থল ও অঞ্চলভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লে একই হারে ভাতা বহাল রাখলে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। তাই বাড়িভাড়া ভাতার হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণ অথবা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা নিয়েও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য দেওয়া এই ভাতায় সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ বা কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং অন্যান্য কিছু ভাতা সমন্বয়ের পাশাপাশি কম ব্যবহৃত বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু ভাতা বাতিলের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরটিভি/টিআর