সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৭:১৫ পিএম
চলতি অর্থবছরে আয়ের ওপর অন্তর্বর্তী সরকার যে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করেছিল সেখানে রেখেই আগামী করবর্ষের করের হার বাজেটে প্রস্তাব করেছিল বিএনপি সরকার; সেখান থেকে সরে এসে ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে একজন ব্যক্তির ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য তাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না।
এর পরের তিন লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে; তাতে মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা রয়েই গেল।
এর আগে করমুক্ত আয়সীমা পার হওয়ার পরের ধাপে ৫ শতাংশ হারে কর ছিল।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর পর সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন।
এদিন বাজেট অধিবেশনে করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা। পরে অর্থবিলের সংশোধনীতে সরকারি দলের সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এ নিয়ে প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ করবের্ষর জন্য করমুক্ত আয়সীমার সঙ্গে পরবর্তী করধাপেও পরিবর্তন এসেছে।
এ সময় করমুক্ত আয়সীমা হবে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত; পরবর্তী ৩ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা আয়ের জন্য ১৫ শতাংশ, এর পরের ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং পরের যেকোনো আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ আয়কর বসানো হয়েছে।
৩৫ শতাংশ করহার করার প্রস্তাব এসেছিল প্রস্তাবিত বাজেটেই। এর পরের দুই করবর্ষের জন্য ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে করমুক্ত সীমা সাড়ে চার লাখ করা হয়েছে।
এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা করা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
আরটিভি/এমএ