images

অর্থনীতি / আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৮ এএম

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। এর ফলে সোনার দাম অক্টোবর ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের মুখে পড়েছে।  

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ১২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক দরপতন। ২০২৪ সালের পর এবারই প্রথম ত্রৈমাসিকে বুলিয়নের দাম কমেছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালের জুন ত্রৈমাসিকের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার চেয়ে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি বেশি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি ও সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির দিকে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে, যা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার এই তিনটি কারণ বর্তমানে সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর বিনিয়োগ আকর্ষণ কমে যায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৬৪ শতাংশ।

এদিকে, ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য সোনা কেনার খরচ আরও বেড়েছে। 

অন্যদিকে, দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বাজারে আলোচনা থাকলেও ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে। 

বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে শিগগিরই দেশের বাজারে সোনার দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।

এর আগে, গত ২৯ জুন বাজুস সর্বশেষ সোনার দাম সমন্বয় করে। সে সময় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা প্রতি ভরি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
258

পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল আদায় কত, যা জানাল কর্তৃপক্ষ

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই তিনটি ধাতুই লোকসানে রয়েছে।

আরটিভি/এসকে