বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪১ পিএম
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন ব্লকে নতুন কূপ খননসহ অনুসন্ধান কার্যক্রমে আদাজল খেয়ে নামছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে নতুন নতুন কূপ খনন করে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হবে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এর আগে দেশের ১৫০টি কূপে খনন ও ‘ওয়ার্কওভার’ (কূপ মেরামত) কার্যক্রমের একটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ২৯টি কূপ খনন করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।
প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন সন্ধান পাওয়া এই গ্যাসের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৩৯ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ১৮০ দিনের চলমান বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় অবশিষ্ট আরও চারটি কূপে বর্তমানে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম জোর কদমে চলছে। পেট্রোবাংলা আশা করছে, এই কূপগুলোর কাজ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।
দেশে বর্তমানে গ্যাসের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পেট্রোবাংলার মুখপাত্র তারিকুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি পূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম সর্বোচ্চ জোরদার করার চেষ্টা করছি।’
নতুন অর্থবছরের বাজেটেও দেশের জ্বালানি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে এবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার মুখপাত্র জানান, সরকার একই সঙ্গে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র—উভয় অঞ্চলেই প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের কারিগরি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় দেশের অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস
আরটিভি/এআর