সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৩ পিএম
বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে সোনার দামে। মাঝেমধ্যে বাড়লেও বেশি সময় উর্ধ্বগতি ধরে রাখতে পারছে না মূল্যবান ধাতুটি। ফলে, সার্বিকভাবে পতনের মুখে সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম থেকে সম্প্রতি বেশ নিচে নেমে এসেছে সোনার দাম। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও (৬ জুলাই) পতন লক্ষ্য করা গেছে সোনার দামে।
এদিন গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ২৩ মিনিটে স্পট সোনার দাম ০.৪৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৫৬.৩৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে অবশ্য সেশনের শুরুতেই প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ২০২.১৩ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন ডলারের সূচক ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে কেনা সোনা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, সোনা বর্তমানে একটি স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে ধাতুটির দাম ধরে রাখতে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও হ্রাস পাওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সোনা বর্তমানে ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ডলারের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, তবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধা রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ২০০ দিনের মুভিং এভারেজ ৪ হাজার ৪৮৫ ডলারের স্তরটি।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়, যার ফলে গত সপ্তাহে সোনার দাম ২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহের পতনের ধারায় ইতি টানে মূল্যবান এই ধাতু।
এদিকে সিএমই ফেডওয়াচ জানায়, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫৬ শতাংশ দেখছেন, যা কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের আগে ছিল ৬০ শতাংশের ওপরে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার সোনা ধরে রাখার খরচ বাড়িয়ে দেয়, কারণ সোনা কোনো সুদের রিটার্ন দেয় না।
আগামী বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের গত ১৬-১৭ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যা নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের অধীনে প্রথম বৈঠক ছিল। এই কার্যবিবরণী থেকে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার সংক্রান্ত ভাবনার আরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে জেপি মরগান গত শুক্রবার এক নোটে জানিয়েছে যে প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা প্রত্যাশানুযায়ী শক্তিশালী নাও হতে পারে। এর ফলে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
এদিকে, সোমবার (৬ জুলাই) দেশের বাজারেও কমানো হয়েছে সোনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
নতুন নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।
আরটিভি/এসএইচএম