images

অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে: এডিবি

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১৬ পিএম

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে। শক্তিশালী প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ও সেবা খাতের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংস্থাটি ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। 

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সেবা খাতের স্থিতিশীল কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে চলেছে।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা জোরদারেও সহায়ক হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি দেশের প্রবৃদ্ধির গতি আরও শক্তিশালী করবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তার কারণে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি সমর্থন পাবে।

এতে বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ অর্থবছরে তা ধীরে ধীরে কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে।

এডিবি’র মতে, মাঝারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার বিধি-বিধান সহজীকরণ, সুশাসনের উন্নয়ন, কর প্রশাসন সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেবা খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে এবং মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

আরটিভি/টিআর