images

অর্থনীতি

বন্যায় ক্ষতির জন্য জরুরি সহায়তা চেয়ে নৌমন্ত্রীকে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০১ পিএম

বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশের চারটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সরকারের কাছে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে তারা। 

সংগঠনগুলো হলো-বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, প্যাকেজিংসামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আর্দ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল বিমানপথে পণ্য পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পানি ঢুকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাজনিত পণ্যক্ষতির দায় অস্বীকার করে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনগুলোর মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।

আরও পড়ুন
Web-Image

চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে বিজিএমইএ-ওকাইব বৈঠক

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ ও অন্যান্য চার্জ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এ পরিস্থিতিতে সংগঠনগুলো ৯ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন, ডেমারেজ, স্টোরেজসহ বিভিন্ন চার্জ আংশিক বা পুরোপুরি মওকুফ, জরুরি পণ্যের জন্য দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্রের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন ঋণ, ঋণ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এলসি ও আমদানি-রপ্তানির সময়সীমা বাড়ানো, কর ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ছাড় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন।

এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌপরিবহন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্ত মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জাতীয় ট্রেড কনটিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনগুলো।

যৌথ চিঠিতে সই করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

আরটিভি/এমএ