বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪ ডলার ৬০ সেন্টে। একই সঙ্গে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তি করা মার্কিন ফিউচার গোল্ডের দামও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৯ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার কদর বাড়লেও সুদের হার চড়া থাকার সম্ভাবনা থাকলে বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা অন্যান্য আর্থিক খাতের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে বাজারে সোনার আবেদন কিছুটা কমে যায়। এর আগে ফেড সুদের হার কমানোর আভাস দেওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই হিসাব সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই তেলের দাম এক ধাক্কায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে বাজার এখন বড় ধরনের দোলাচলে রয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার ৭৩ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নিয়ে লেনদেন করছেন। ফেড গভর্নর লিসা কুক সম্প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদের হার বাড়াতে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না।
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ বেশ কমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৭৮ সেন্টে নেমে এসেছে। এ ছাড়া মূল্যবান ধাতু প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আরটিভি/এআর