সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৪:২০ পিএম
২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেও তার বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় মফস্বলে দীর্ঘদিন লোডশেডিং চলছে। বিতরণ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না হওয়ায় সিস্টেম লসও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো আধুনিকায়ন না হওয়া মফস্বলে লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত ছিল এ খাতে নজর দিয়ে বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা।
বিপিডিবির হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৭২৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টায়। তবে বিপিডিবির যৌথ মালিকানাধীন কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বেড়ে আগের বছরের (২০২৩-২৪) ১০ হাজার ৬৮০ থেকে ১৩ হাজার ৬৭৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টায় হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ আইনের আওতায় নবায়নযোগ্য (বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প, সৌরবিদ্যুৎ) বিদ্যুতের অনেকগুলো প্রকল্পের এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ড) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাতিল না করে সরকার আলোচনার মাধ্যমে দর নির্ধারণ করে নবায়নযোগ্য প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সরকারের শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, নবায়নয্যোগ্য জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নিতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নীতিমালাও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য সরকার আলাদা নীতিই করেছে। সেই নীতি সরকারের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। সেই অনুসারে কাজও শুরু করে দিয়েছে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অফগ্রিড-অনগ্রিড মিলিয়ে সক্ষমতা ১ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট। যার মধ্যে ১ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট সরাসরি গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ। যেখানে গ্রিডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৩৫৯ মেগাওয়াট।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের সময়ে যেসব দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। অযাচিত চুক্তির আওতায় যেহেতু বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে ফলে দেখা দরকার কতটুকু অর্থ তাদের প্রাপ্য।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৬২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমিয়ে চলতি অর্থবছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ব্যয় ১০ শতাংশ কমাতে বিপিডিবি বিভিন্ন সংস্কার চালাচ্ছে, যার ফলে ইতোমধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তরল জ্বালানি আমদানির সার্ভিস চার্জ ৯ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে সাশ্রয় হবে আরও ৪৭০ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী প্ল্যান্টের ট্যারিফ কমানো, পুরনো ১০টি আইপিপি/রেন্টাল বন্ধ, এবং সরকারি কোম্পানির ট্যারিফ কমানোর মাধ্যমে মোট কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। বিশেষ আইনের অধীনে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি প্রতিবেদন দেবে।
আরটিভি/এস