মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৪৫ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পোষ্য সুবিধায় ভর্তি সম্পূর্ণভাবে বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রহসন’ করে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার নামে পুনরায় পোষ্য ভর্তি সুবিধা বহাল করেছে।
এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলা বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মহসিন আলী বলেন, আপনারা জানেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কত সীমিত। এখানে পড়া অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে অগ্রাধিকার না দিয়ে পোষ্য কোটার নামে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জনের দুই থেকে তিনজন ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়-স্বজন এখানে পড়ছে। অথচ প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা হাজার চেষ্টা করেও এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এই প্রহসনমূলক কোটার কারণেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টার মধ্যে যদি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করব।
ইংরেজি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, আমাদের একটাই দাবি- এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা বা কর্মজীবনে অন্যায্যতার বিরুদ্ধে আমরা শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে থাকব। কিন্তু সেই বিষয়কে হাতিয়ার বানিয়ে কেউ যদি মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক স্থানে বিশেষ সুবিধায় নিজের সন্তানকে ভর্তি করাতে চায়, তা আমরা মেনে নেব না। আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়ব না। আগামীকাল বেলা ১১টার মধ্যে পোষ্য ভর্তি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত না করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পোষ্য কোটাকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে’ আমৃত্যু গণঅনশন শুরু করেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। প্রায় ১৯ ঘণ্টা অনশনের পর উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন রাতেই পোষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত জানান উপাচার্য।
উপাচার্য সিদ্ধান্ত জানান—পোষ্য কোটায় মোট ৪০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে এবং শুধু সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আর পোষ্য কোটায় পাস মার্ক করা হয় ৪০ শতাংশ।
প্রশাসনের ওই সংস্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই দিন প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সাঁটানো পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে সেখানে দুই পক্ষের উত্তেজনার পর শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে উপাচার্য বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ভর্তি কমিটির এক সভায় পোষ্য ভর্তিতে পূর্বের নিয়মগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় সংস্কার করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধু তাদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে এ সুবিধা ভোগ করবেন। আগে এই কোটার আওতায় ভাই, বোন এবং স্ত্রীও ছিলেন।
আরটিভি/এমএ