বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৫৫ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলার জটিলতা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, শুধু সাধারণ শিক্ষক নয়, বরং মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় যেসব প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ আটকে আছে, সেগুলো খুব দ্রুত সমাধানের পথে। সরকার চাইছে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিতে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে যে সময় লাগবে, সেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পাঠদান সচল রাখতে একটি অভিনব পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘শিক্ষক পুল’ গঠন করা হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে এই পুল থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে দ্রুত কাজে লাগানো হবে। এতে অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতিও পূরণ হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষার কারণে বছরের একটি বড় সময় সাধারণ পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। এই সমস্যা দূর করতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন, যেন তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার স্কুলের ক্লাস তদারকি করেন। মন্ত্রী মনে করেন, শিক্ষক যদি ক্লাসে শতভাগ পাঠদান নিশ্চিত করেন, তবে শিক্ষার্থীরা নকলের মতো ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে।
মানসম্মত শিক্ষার গুণগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. মিলন বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শুধু দালানকোঠা বা অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার আধুনিকায়ন ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোই বর্তমান সরকারের প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আরটিভি/এআর