বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৯:২৮ এএম
দেশের বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা–২০২৬ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বদলি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারভিত্তিকভাবে পরিচালিত হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নির্দিষ্ট সময়ে শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে এবং সেই অনুযায়ী আবেদন আহ্বান করবে।
শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা দেশের যেকোনো জেলায় সমমানের প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবেন।
একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন থাকলে নারী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর বিবেচনায় আসবে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম দিতে পারবেন। বদলির পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর না হলে পুনরায় আবেদন করা যাবে না।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক একই সময়ে বদলি হতে পারবেন না।
বদলির পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং এমপিও সুবিধা, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে। তবে বদলি কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং কোনো ধরনের ভাতা প্রদান করা হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির আদেশের ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং নতুন কর্মস্থলে ১০ দিনের মধ্যে যোগদান করতে হবে। এ সময়কে চাকরিকাল হিসেবেও গণ্য করা হবে।
স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে শিক্ষক বদলির যোগ্য হবেন না। তবে জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় বদলি করতে পারবে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৪ সালের পুরোনো বদলি নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ