শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ১২:৪১ পিএম
বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তৃতীয় ভাষা হিসেবে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মানের মতো ভাষার যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন কাঠামোর অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তৃতীয় ভাষা জানা শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কারিগরি, প্রযুক্তি, কৃষি বা গবেষণার ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
আরটিভি/এসকে