মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৮ পিএম
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল মেধা বৃত্তিই নয়, বরং আবাসন, খাবার এবং যাতায়াত সুবিধাও প্রদান করছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কার্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করে।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, এ বছর বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মোট ছয়টি অঞ্চল থেকে ৩ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল মেধা বৃত্তিই নয়, বরং আবাসন, খাবার এবং যাতায়াত সুবিধাও প্রদান করছে।
ইমরান হায়দার আরও বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এক বৈঠকে শিক্ষা খাতকে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে উভয় দেশই লাভবান হবে।
বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু, অন্তত একটি সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক এক্সচেঞ্জ, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা সহযোগিতা প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অগ্রগতির বিষয়ে পাকিস্তানের 'নলেজ করিডোর' কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার ইউজিসিকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'উচ্চশিক্ষা কমিশনে' রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের হয়ার এডুকেশন কমিশনের (এইচইসি) দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হলে উভয় দেশের উচ্চশিক্ষা খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
আরটিভি/ এসকেডি