বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৫৮ এএম
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষকদের বদলি ও নিয়োগে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু অভিযোজন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিনামূল্যে স্কুল পোশাকসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনা।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমবে এবং স্মার্ট ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মাউশি জানিয়েছে, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নথিপত্র ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যভান্ডারকে আরও নিরাপদ ও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন সেবা, ডিজিটাল মজুত ব্যবস্থাপনা এবং দপ্তরের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আরও আধুনিক করার কাজও চলছে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্য পদে নিয়োগের জন্যও আলাদা সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
দেশের সব বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে নজরদারি যন্ত্রকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে মাউশি। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতে এক শিশু, এক গাছ কর্মসূচির আওতায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশে ২৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের জন্য ট্যাব, স্কাউটিং সম্প্রসারণ, কলেজ শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন মাউশি ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষার্থী কল্যাণসহ ছয়টি নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে ২১টি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এবং ১৮টি ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা, বহুমাধ্যমভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ, আনন্দময় শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, বিনামূল্যে স্কুল পোশাক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা এবং আলাদা শিক্ষা চ্যানেল চালুর উদ্যোগ।
প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশের ৪৭১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
মেয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বিদ্যালয় গড়ে তোলা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি এবং কিশোরীদের ক্ষমতায়নসহ একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে মাউশি। এছাড়া দেশের নয়টি জেলার ৮৮০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/জেএমএ