images

ক্যাম্পাস

ইবিতে সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৯ জনকে সতর্ক

বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০৭:১৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আরও ৯ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক সই করা চার পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন-অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা পারভীন তিনা, নাহিদ হাসান ও রিয়াজ মোর্শেদ। 

এ ছাড়া সতর্ক করা ৯ শিক্ষার্থী হলেন- একই বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া, মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন, সৌরভ হোসেন সজীব ও ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ফরিদুল আলম পান্না।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাংবাদিক আরিফের মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও মারধরে উস্কানি দেওয়ায় আফসানা পারভীন তিনা, সাংবাদিক রবিউলকে তলপেটে লাথি মারা ও সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল রিসেট দিয়ে মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রাখার দায়ে নাহিদ হাসান এবং প্রক্টর বরাবর জুনিয়রদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা ও এ ঘটনায় নাহিদকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করায় রিয়াজ মোর্শেদকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরোক্ষে ভূমিকা থাকায় সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া, মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন, সৌরভ হোসেন সজীব ও ফরিদুল আলম পান্নাকে পরবর্তীতে এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট না থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।

গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহ ভিডিও করতে গেলে মোবাইল কেড়ে নেন আফসানা পারভিন তিনা। একপর্যায়ে তার উস্কানিতেই আরিফের ওপর হামলা চালান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় আরেক সাংবাদিক রবিউল ইসলাম উপস্থিত হলে তাকে দৌড়ে এসে তলপেটে লাথি মারেন নাহিদ হাসান। ঘটনার শেষে তিনাকে মারধর করা হয়েছে—এমন ভান করে মেডিকেলে ভর্তি করা হয় তাকে। এ ছাড়া জুনিয়রদের দিয়ে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় গত ১৪ জুলাই অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী গত সিন্ডিকেটে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরটিভি/এমএ