images

ক্যাম্পাস

আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৩২ পিএম

মফস্বলের নীরব প্রান্তরে বসন্ত যেন নিঃশব্দে এসেছে। মুকুলের সুবাসে ভরা ক্যাম্পাসে ভোরের পাখির কিচিরমিচির আর হালকা বাতাস মিলিয়ে তৈরি করেছে এক স্নিগ্ধ আবহ। এ সময়টায় চারদিকে ভেসে বেড়ায় এক পরিচিত মিষ্টি ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে হালকা হলুদ রঙের মুকুল ফুটে বসন্তের নীরব উৎসবের বার্তা জানাচ্ছে।

প্রকৃতির এই রূপ যেন শৈশবের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। মনে পড়ে যায় পল্লীকবির  সেই চিরচেনা পংক্তি ‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।’-- কবিতার সেই সরল আনন্দ যেন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আজ মুকুলে ভরা গাছ, কাল সেখানে ধরবে ছোট ছোট আম। সময়ের সাথে সাথে পেকে উঠবে ফল, আর ছড়িয়ে পড়বে আম কুড়ানোর হাসি-আনন্দ।

Aam001

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব, শিক্ষক ডরমিটরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অগ্নিবীণা হল, দোলন-চাঁপা হল, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এলাকাসহ ক্যাম্পাসের সব আমগাছে ফুটেছে মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সুগন্ধ। মুকুলে ভিড় করছে প্রজাপতি-মৌমাছি। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা পুরো ক্যাম্পাস। মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের ঘ্রাণ মুগ্ধ করছে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের।

ক্যাম্পাসের এক নম্বর গেট থেকে উপাচার্যের বাস ভবন, একাডেমিক ভবন থেকে আবাসিক হল, যেদিকেই চোখ যায়, আমগাছে মুকুল দেখা যায়। গাছগুলোতে এখন থরে থরে মুকুল। হালকা বাতাসে দোল খাওয়া মুকুলের গন্ধে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছে অন্যরকম স্নিগ্ধ। 

Aam003

ফাল্গুন-চৈত্র এলেই প্রকৃতি নতুন রঙে সেজে ওঠে। এই সময় আমের মুকুল শুধু ফলনের পূর্বাভাস নয়, এটি যেন ঋতুর সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রকাশ। সকালে ক্লাসে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীরা একটু থেমে তাকায়, কেউবা মোবাইলে ছবি তোলে, কেউ আবার মুকুলের নিচে দাঁড়িয়ে গল্পে মেতে ওঠে।

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী অনির্বাণ পাল বলেন, `আমের হলুদাভ মুকুলে ভরে উঠছে পুরো ক্যাম্পাস। এগুলো দেখলে মনে হয় ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার নয়, প্রকৃতিরও এক আশ্রয়স্থল। মুকুলের ভারে আমগাছগুলো যেন নুয়ে পড়ছে। আজকের এই মুকুল আগামীদিনের আম হয়ে উঠবে, আর সেই আম পেড়ে খাওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম'

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, শিক্ষক-কর্মকর্তারাও এই সময়টায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। কেউ বলেন, এই মুকুল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক। যেমন আজকের শিক্ষার্থীরা, যারা একদিন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের ফল ফলাবে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই গ্রামীণ জনপদে ঘেরা একটি ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ মাঠ, গাছপালা আর খোলা আকাশ সব মিলিয়ে এটি এক প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা শিক্ষাঙ্গন। আমের মুকুল সেই সৌন্দর্যকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুকুল ঝরে পড়ার শব্দ, মৌমাছির গুঞ্জন সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস এখন যেন সজীবতার এক অনন্য উদাহরণ। 

লেখক, শিক্ষার্থী
মোঃ শাহিদুল ইসলাম সবুজ
আইন ও বিচার বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়


আরটিভি/এমআই