images

ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে কুকুরের রাজত্ব, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৪৪ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়েছে কুকুরের উৎপাত। কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই মধ্যে গত এক মাসে, একাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কুকুরের তাড়া খেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

দেখা যায়, ক্যাম্পাসের সিঙ্গারা হাউস শিক্ষার্থীদের আড্ডার অন্যতম স্থান। আর, একই জায়গায় কুকুরের আশ্রয়স্থল গড়ে উঠেছে। এটি ছাড়াও ক্যাম্পাসের বাসস্ট্যান্ড, নজরুল ভাস্কর্য, টিএসসি, চারুদ্বীপ, নতুন প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রী হল রোড, ফার্স্ট গেট-সংলগ্ন সড়ক, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের কদমতলাসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের আশপাশে কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে। ফলে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করা সংশ্লিষ্টদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

একাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে অনেক কুকুরের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কুকুরের আক্রমণের আশঙ্কায় আছেন। অনেকেই কুকুর দেখলে ভয় পান। ফলে, মুক্তভাবে চলাফেরা করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় কুকুরের আধিপত্য। ফলে, রাতে শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় আতঙ্ক দেখা দেয়।

কুকুরের তাড়া খেয়ে আহত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাফিনা গাজী এমি বলেন, কিছু দিন আগে রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হল-সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি কুকুর তাকে ধাওয়া করলে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন, যা ছিল তার জন্য ভীতিকর ও কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ক্যাম্পাসে পথ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, সন্ধ্যার পর ঝুঁকি আরও বাড়ে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কুকুর নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলবদ্ধ কুকুরের ঘেউ-ঘেউ, হঠাৎ তাড়া করা কিংবা আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে অনেকেই আতঙ্কে ভোগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্লাস বা লাইব্রেরি শেষে ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়েরা, একা বের হতে ভয় পাচ্ছে। ফলে, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে ত্রিশাল পৌরসভা ও ইউএনও কার্যালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

আরটিভি/টিআর