images

ক্যাম্পাস

ইবিতে শিক্ষক রুনা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, প্রধান ফটকে তালা

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৩ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে জমায়েত হয়। এ সময় প্রশাসন ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। কিছুক্ষণ পরে কর্মকর্তাদের কেউ একজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এতে দুপুর ১টার বাস বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার বিচার বিচার চাই, ম্যাম হত্যার বিচার চাই’; ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’; ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; ‘প্রশাসনের অনেক গুণ, দিনদুপুরে মানুষ খুন’;  প্রশাসন কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন
SSC

এসএসসি পরীক্ষায় থাকছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। সাজিদ হত্যার বিচার হলে ফজলু আমাদের ম্যামকে হত্যা করার সাহস করত না। ফজলু ছাড়াও শ্যাম সুন্দর সরকার, হাবিব, বিশ্বজিৎসহ যে কয়জন জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে আগে সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা হয়েছে, তারপর আমাদের ম্যাডাম খুন হয়েছে, এরপরে আমি আপনি খুন হবো না তার নিশ্চয়তা কে দিবে?’

এছাড়াও প্রশাসনের কাছে ৪ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণাধীন হল আসমা সাদিয়া রুনার নামে নামকরণ করতে হবে এবং বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা আন্দোলনস্থলে এসে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানালে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেয়। 

ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর এখনও কথা বলতে না পারায় আমরা তার জবানবন্দি নিতে পারিনি। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধরতে আমরা একাধিকবার বিভিন্ন লোকেশনে অভিযান চালিয়েও তাদেরকে পাইনি। এছাড়া তাদের বিদেশগমন ঠেকাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। র্যাবের মাধ্যমেও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি দ্রুতই তাদের রিপোর্ট দেবেন। বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং রুনার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব আমি নিজেই করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হত্যার পর আইনানুগভাবে যতটুকু প্রাপ্য, তার জন্য শিক্ষিকার পরিবার আবেদন করেছে। আমরা তা পূরণ করব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হলে রুনার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আরটিভি/এমএম