সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:০১ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ছাত্রদল নেতাকে বহিরাগত দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে একই দলের কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একজনকে আটক করেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শাওন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন ডিসিপ্লিনের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। অভিযুক্ত কর্মীর নাম আকাশ। তিনিও একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রক্টর দপ্তরে সিসি ফুটেজে দেখা গেছে, শাওন যখন মোটরবাইক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অভিমুখে যাওয়ার পথে তাকে আটকান আকাশসহ কয়েকজন। তারপরই তাকে কিল-ঘুষি-লাথি মেরে বাইক থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাওয়ন জানান, খেলার অনুশীলন শেষে বাসায় ফেরার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা চার থেকে পাঁচজন বহিরাগত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ঘাড়ে আঘাত করে। এতে তার হাত ভেঙে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
হামলার সময় তিনি মোটরসাইকেলে ছিলেন; হামলাকারীরা তাকে বাইক থেকে ফেলে দেয় এবং মাটিতে ফেলে গলায় চাপ দিয়ে মারধর অব্যাহত রাখে। আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে হামলাকারীদের হাতে কী ছিল তা তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনে বসা নিয়ে একটি ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতে সিগারেট নিয়ে এসে পাশে বসা ছাত্রীদের সরে যেতে বললে সাওয়ন তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সেই ঘটনার জের ধরেই পরবর্তীতে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় রূপ নেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আকাশ দাবি করেন, তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সংগঠন বা বিএনপির সঙ্গে তার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি মূলত বিষয়টির সমাধানের উদ্দেশ্যে অপর পক্ষের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। তারপর চলে আসার পথে আলাদা কথা বলতে যান তারা।
আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের এক পর্যায়ে অপর পক্ষ অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাকে আঘাত করেন।
বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তার বন্ধু মহলের সদস্য, যারা সেদিন ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছিল এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিল। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা দুজনই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী। পূর্ব ঘটনার জেরে একজন কিছু বহিরাগত এনে অন্যজনকে মেরেছে। ঘটনাস্থলেই এক বহিরাগতকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিম। এ ঘটনায় যাচাই করে সিন্ধান্ত নেবেন তারা।
আরটিভি/এমএম