বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৮:৪৫ পিএম
রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার দায়ে ৪ ছাত্রের সিট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক বহিরাগতসহ ৫ জনকে পুলিশে সোপর্দ করার পর ইতোমধ্যে ১৫ দিন কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন তারা। বহিরাগত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন— আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং শাহরিয়ার পলক।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল রাতে মেডিকেল কলেজটির মসজিদের গলি থেকে শাহরিয়ার পলক উলঙ্গ অবস্থায় এক বহিরাগতের সঙ্গে আটক হন। তাকে জেরা করা অবস্থায় তিনি ক্যাম্পাসে থাকা আরো কিছু সমকামীর পরিচয় প্রকাশ করেন।
এর মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই দিন (২৩ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৩ এপ্রিল হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র সমকামীতায় আসক্ত সন্দেহে তাদেরকে কাফরুল থানা পুলিশের নিকট সপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে দুপুরে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধন্ত মোতাবেক তাদের ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ সাময়িক ভাবে বাতিল করা হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, ওই চার শিক্ষার্থীকে জেরা করলে তাদের মোবাইল থেকে ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসে। মূলত তারা সমকামী নেতা এবং পুরুষ সমকামী (গে) কমিউনিটির প্রধান। প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ওই চার শিক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরও সমকামিতায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, আটকের পর আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ যৌনচর্চায় ব্যাবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এমনকি হোস্টেলের ছাত্রদের খালি গায়ে থাকা অবস্থায় ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করারও প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে এ ঘটনায় আটক একজন শিক্ষার্থী এইডস আক্রান্ত বলেও দাবি করেন তিনি। ‘ওই শিক্ষার্থী এমন কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে আসেন। এ ছাড়া তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে আসে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমকামিতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আটক ও সিট বাতিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতোমধ্যে তাদের কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করেছি। তবে তাদের ছাত্রত্ব থাকবে।
আরটিভি/এসআর