বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৯ পিএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর এবং সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদ্বয় জানান, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। এ ঘটনা কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্ভ্রমকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং সামগ্রিকভাবে শিক্ষাঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নানাবিধ নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে।
অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দেশের সব শিক্ষাঙ্গনে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি।
প্রসঙ্গত, এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ১ জুলাই বেলা ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কলা অনুষদের ৫ম তলায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের বারান্দায় তার সঙ্গে আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক একটি ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিনি এর আগে কখনও দেখেননি। ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত ও আতঙ্কিত করেছে।
এ ঘটনায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্যসচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরটিভি/টিআর