বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম
দীর্ঘদিনের গরম ও পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের অভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি রাকসুর উদ্যোগে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নতুন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বদলে গেছে সেই চিত্র। পাঠকক্ষগুলোতে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ফিরেছে লাইব্রেরির প্রাণচাঞ্চল্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঠকক্ষগুলোতে ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ১০টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে পাঠকক্ষগুলো পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি শীতল ও আরামদায়ক হয়ে উঠেছে।
লাইব্রেরি সূত্রে জানা গেছে, এসি স্থাপনের আগে প্রতিদিন সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ পাঠক পড়তে আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতশ থেকে আটশ জনে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগে প্রচণ্ড গরমের কারণে দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ত। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে অনেকেই বাধ্য হয়ে হলের কক্ষ বা বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন। বর্তমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে।
ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান বলেন, আমি প্রতিদিনই লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে আসি। এসি স্থাপনের আগে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় অস্বস্তি বোধ করতাম। এখন এসি স্থাপনের মাধ্যমে পড়াশোনার পরিবেশটা মোটামুটি মানানসই হয়েছে। রাকসু ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করার জন্য।
ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পুতুল আক্তার বলেন, আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গরমের কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি বসে থাকা যেত না। এখন কয়েক ঘণ্টা একটানা পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই এসি স্থাপন করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সেই দাবিটি পূরণ করতে পেরেছি। আশা করি, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করতে পারবে।
এসি স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে লাইব্রেরির প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এর পূর্ণ সুফল পাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে পাঠকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জায়গা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরও কিছু সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরোপুরি সংস্কারকাজ শেষ হলে আশা করি, শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর পরিবেশে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে পারবে এবং এটি বাংলাদেশের অন্যান্য লাইব্রেরি গুলোর মধ্যে অন্যতম মডেলে পরিণত হবে।
আরটিভি/এমএম