images

ক্যাম্পাস

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ পদক পেলেন বাকৃবি অধ্যাপক

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১৯ পিএম

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিসর্গ পুরস্কার’ ক্যাটাগরিতে তিনি এ পদকে ভূষিত হন।

সম্প্রতি রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

জানা গেছে, অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, উদ্ভিদসম্পদের সম্প্রসারণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির উদ্ভিদ বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষিত হয়েছে, যার মধ্যে বহু বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিও রয়েছে।

বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও গাছের চারা উৎপাদন করে সেগুলো শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে তিনি এসব প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন, যা ঐতিহ্যবাহী ভেষজ জ্ঞান সংরক্ষণ, গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া ৭০টিরও বেশি প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণের মাধ্যমে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং পানির গুণগত মান উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তার ১২০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

পাশাপাশি তিনি বাকৃবির বোটানিক্যাল গার্ডেনের কিউরেটর এবং কৃষি জাদুঘরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে কৃষি জাদুঘরটি একটি জীবন্ত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে বিরল উদ্ভিদ সংগ্রহ, ঔষধি বাগান এবং জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষার্থী, গবেষক ও পর্যটকদের জন্য প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫-এর “নিসর্গ পুরস্কার” ক্যাটাগরিতে মনোনীত করায় আমি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত বোধ করছি। এ পুরস্কারপ্রাপ্তি আমার নিবেদিত কাজের একটি স্বীকৃতি, যা আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ ধরনের কাজ চলমান থাকবে এবং এগিয়ে নিয়ে যাব। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই দায়িত্ব পৌঁছে দিতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।

আরটিভি/টিআর