বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০১:২৫ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের তিনটি বিভাগ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রথমবারের মতো নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলের একটি ব্লকে প্রায় ৪০০ নবীন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে স্থান হয়নি তাদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের জন্য নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র ডি ইউনিটের অধীন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ এবং কলা অনুষদের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোট ৩৩০ শিক্ষার্থীর প্রথম মেধাতালিকার ভর্তি কার্যক্রম গত ১০ থেকে ১২ মে সম্পন্ন হয়। সে সময় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো আটটি আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এরপর গত ৮ জুলাই নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলে নবীন শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই অনুযায়ী গুচ্ছভুক্ত ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ৮ থেকে ১৬ জুলাই চলাকালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পুরোনো আটটি হলের পাশাপাশি নতুন হলেও আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ভর্তি কার্যক্রম আগেই শেষ হওয়ায় ডি ইউনিটের শিক্ষার্থীরা নতুন হলে আসন বরাদ্দের সুযোগ পাননি। এতে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ডি ইউনিটের একাধিক নবীন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে আরটিভিকে বলেন, আমাদের ভর্তির সময় নতুন হলের কাজ শেষ হয়নি বলে সেখানে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কিন্তু মাত্র দেড় মাস পরই অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেই হলে আসন পেয়েছেন। আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। আমাদেরও নতুন হলে আবাসন বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাই।
ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী আরটিভিকে বলেন, ডি ইউনিট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র ইউনিট। আমাদের ভর্তি কার্যক্রম নতুন সিদ্ধান্তের আগেই শেষ হয়েছে। তবে বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।
প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন বলেন, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের তিনটি বিভাগ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম আগেই শেষ হওয়ায় এসব শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হলে আসন পায়নি। বর্তমান প্রশাসন নতুন হলের একটি ব্লকে শিক্ষার্থীদের আবাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান বলেন, ডি ইউনিটভুক্ত চারটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ হলে প্রাথমিকভাবে ১০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে অন্য হলে পরিশোধ করা আবাসন ফি যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন হলে স্থানান্তর করা যায়, সে বিষয়ে আইসিটি সেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ