বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০২:৪৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফজলুক হক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন মাহিন, ডালিম হোসেন শান্ত ও সফিকুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন।
এসময় জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সাংবাদিকতা বিভাগসহ বাইরের বিভাগ থেকে আজকের এই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যারা এসেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের রাষ্ট্রের প্রতি অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকতা করলে প্রথমদিন থেকেই বাস্তব দক্ষতা অর্জন করা যায়। পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষেত্রে গেলে সেই দক্ষতার মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত কঠিন পেশা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এই পেশা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে। আপনাদের কারণে যেন অকারণে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে।
রাবি প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফজলুক হক বলেন, অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি রাবি প্রেসক্লাবের নবীন বরণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছো, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। ক্যাম্পাস জীবনে শুধু পড়াশোনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। যারা সাংবাদিকতা শিখতে বা এই পেশায় কাজ করার আগ্রহ রাখে, তাদের সবাইকে রাবি প্রেসক্লাবে এসে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, আমার গর্ববোধ হয়, যখন দেখি আমার শিক্ষার্থীরাই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নানা দায়িত্ব পালন করছে। আমরা সাংবাদিকতা করব শুধু খবরের পেছনে দৌড়ানোর জন্য নয়; আমাদের সমাজকে চিনতে হবে, রাষ্ট্রকে চিনতে হবে। আমরা যদি কাঙাল হরিনাথকে না চিনি, যদি মোনাজাত উদ্দীনকে না চিনি, তাহলে সাংবাদিকতার শেকড়কেই চিনতে পারব না। তাই তাঁদের সম্পর্কে জানতে হবে, তাঁদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং তাঁদের বই ও প্রতিবেদন নিয়ে চর্চা করা উচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করতে হয়, তাই একজন সাংবাদিকের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত ধারণা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নৈতিকতার জায়গা থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এখন মানুষ মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলে না। লেখা কিংবা কথার মাধ্যমে অন্যকে অসম্মান করার প্রবণতা বেড়েছে। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে। তাই কেউ যেন আমাকে ব্যবহার করে অন্য সুবিধা আদায় করতে না পারে কিংবা সমাজের ক্ষতিকর কোনো কাজে সম্পৃক্ত করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রেসক্লাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা একটি অনন্য দক্ষতা। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি আমরা নিজেদের আগ্রহ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে এই স্বেচ্ছাসেবী কাজ করি। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে সেগুলো মোকাবিলা করে আমরা নিজেদের অধিকারও আদায় করি।
তিনি আরও বলেন, আমি চাই তারাই সাংবাদিকতায় আসুক, যাদের সত্যিকারের আগ্রহ রয়েছে এবং যারা এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করে। আজ যারা নবীন বরণে অংশ নিয়েছো, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এই যাত্রায় আমরা তোমাদের সহযোগী, সহযাত্রী ও সহকর্মী হিসেবে পাশে থাকতে চাই এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চাই।
অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসানের সঞ্চালনায় সহসভাপতি মারুফ হোসেন মিশন ও মিরাজ আফ্রিদি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক আবু বকর অনিক, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহিনসহ কার্যনির্বাহী ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এবারও সাংবাদিকতায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানায় প্রেসক্লাব। এতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
আরটিভি/এসএস