শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০৩ পিএম
‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট’ দর্শনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘স্টুডেন্টস সাপোর্ট সার্ভিস ইউনিট’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। একই সঙ্গে নিরাপদ খাবার, সেবার মানোন্নয়ন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ফর টিচার্স’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৩০ জন শিক্ষক অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন প্রভাষক, ৩ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ১ জন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'আমরা যদি প্রতিটি শিক্ষার্থীর নাম, সক্ষমতা ও শেখার ধরন জানি, তবে পাঠদান হবে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক। উদ্ভাবন, এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে আমাদেরও দক্ষতা ও কর্মপদ্ধতি যুগোপযোগী করতে হবে। আশা করি, এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগবে।'
শিক্ষার্থীদের সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট’ দর্শনকে সামনে রেখে ‘স্টুডেন্টস সাপোর্ট সার্ভিস ইউনিট’ চালু করতে যাচ্ছি। এই ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে খাবারের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট সেবা ইউনিটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
নতুন ক্যাম্পাসকে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নতুন ক্যাম্পাসকে একটি ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা নানাভাবে পরিবেশের সঙ্গে অন্যায় করে চলেছি। আমাদের কথা, আচরণ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের চর্চা, আচরণ ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আমরা চাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, শিক্ষণ-শেখনকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে।'
আরটিভি/ এসকেডি