মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৭:১২ পিএম
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জুলাইয়ের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে একাধিকবার দাবি জানানোর পরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ জরুরি। তাদের মতে এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে জানাবে এবং শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানোর একটি স্থায়ী প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন 'পাটাতন' নিজেদের উদ্যোগে একটি জুলাই স্মৃতির মিনারের নকশা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছিল এবং উক্ত মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়নে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
এ ব্যাপারে পাটাতনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েম মুহাইমিন বলেন, আমরা জুলাই স্মৃতির মিনার নিয়ে উপাচার্য বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিলাম। আবেদনটি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দপ্তরে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। পরে প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নকশার ভিত্তিতে ইস্টিমেটেড বাজেটও প্রস্তুত করেছিল। সর্বশেষ, প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শহিদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রকল্পটির চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। বাজেট সম্পন্ন হলে তা উপাচার্য দপ্তরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এ অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।'
এছাড়া ২০২৫ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই মিনার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি উদ্যোগে একটি ‘প্রতিরোধ মিনার’ নির্মাণের কথাও জানান।
তবে ঘোষণার এক বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই স্থানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে সাবেক সমন্বয়ক ও কুবি ছাত্রশক্তির সংগঠক নাঈম ভূঈঁয়া বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আমরা গত বছর থেকে কাজ করছি। আমরা কয়েকটা ডিজাইনও জমা দিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যখন আমাদের ক্যাম্পাসে আসে তখন ওনার মন্ত্রণালয় থেকে ওনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভ আরেকটা কোটবাড়ি বিশ্বরোডের স্মৃতিস্তম্ভ করার কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন হয় নাই।'
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রায়হান বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, এমনকি আমাদের একজন ভাই শহীদ হয়েছেন। তাই জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ, দ্রুত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলেই আমরা এর নির্মাণকাজ শুরু করব।'
আরটিভি/ এসকেডি