রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৬ এএম
শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৫ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রধান আলোচক বলেন, পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। জনমিতিক যেখানে লভ্যাংশ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে জনমিতিক বোঝা নিয়ে আমরা বাস করছি। কর্মক্ষম মানুষ অনেক, নির্ভরশীল মানুষ কমে গেছে। তবে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বেড়েছে। ২০২০ থেকে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। যে সমস্ত ব্যক্তি শিক্ষায় নাই, কর্মসংস্থানে নাই, প্রশিক্ষণে নাই, সে সমস্ত ব্যক্তি ৪১%। এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৬২%। বেকারত্বের সংখ্যা ২০২০ সাল থেকে দিন দিন বেড়ে গেছে।
আমাদের সুযোগ ছিল যে, প্রতি চারজনের মাঝে একজন যুবক। কিন্তু সেটা কাজে লাগায়নি পতিত সরকার। একটা দেশের সঙ্গে কতটা গাদ্দারি করলে জনশক্তিতে জনগণের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ০.৭%। শিক্ষায় যেই শিক্ষার্থী ১২ টা শ্রেণি সম্পন্ন করেছে, তার স্থান হচ্ছে পাঁচ ধাপ নিচে।
তিনি আরও বলেন, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু পড়ানো হয় না যে, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় দারিদ্র্য কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে, দারিদ্র্য বিমোচনের হার বেড়ে গিয়েছিল। তবে আমি আশা করি, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনমিতিক বোঝাকে জনমিতিক লভ্যাংশে পরিণত করা যাবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কথা বললে, উপজেলা হাসপাতালগুলোয় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২০ টি শয্যা ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে এটি ৩০ টি শয্যায় রূপান্তরিত করা হয়। এরপরে আর বাড়েনি। আমরা এসেই এটি ১০১ শয্যায় নিয়েছি। আমাদের একটা দর্শন আছে সবার আগে বাংলাদেশ, অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিন্তু বলেন নাই আই হ্যাভ এ ড্রিম, তিনি বলেছেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দীন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কে. এম. মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আরটিভি /এসএস