images

ক্যাম্পাস

‘বৃক্ষনিধন’ পরিকল্পনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:০১ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেট থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত রাস্তার পশ্চিম পাশের গাছগুলো সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, কয়েক দিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কদমতলা থেকে দ্বিতীয় গেট পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণাধীন ফুটপাতে থাকা গাছগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোই ইতোমধ্যে মারা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে গাছের সংখ্যা কম। এ ছাড়া বড় গাছ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি। তাই নতুন করে আর কোনো গাছ যেন স্থানান্তর না করা হয়। গাছগুলো না সরিয়েও নকশা পরিবর্তন করে অন্য পাশ দিয়ে নির্মাণকাজ করা সম্ভব।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই। তবে সেটা অবশ্যই প্রাণ-প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে। বৃক্ষনিধন করে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা চাই না। আমরা মানববন্ধন করেছি, সেটাও বৃক্ষের ছায়াতলে। তাই প্রকৃতিকে নষ্ট করে কোনো কিছুই নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রকৃতি বাঁচিয়ে উন্নয়ন করা যায়।

আরও পড়ুন
boby-hajjaj

প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য নতুন নীতিমালা ও পে-স্কেল নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বার্তা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের নামে পরিবেশের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যদি সত্যিই গাছগুলো যথাযথভাবে স্থানান্তর করে থাকে এবং সেগুলোর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তা ইতিবাচক। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু বৃক্ষনিধন করে আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো উন্নয়ন আমরা চাই না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মামুন সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আছে। তবে গাছ কাটা হচ্ছে না, গাছ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কাটা এক জিনিস, আর সরিয়ে নেওয়া আরেক জিনিস। তবে যদি অন্য কোনো উপায় থাকে, যাতে গাছগুলো রেখেই রাস্তা করা যায়, তাহলে সেই উপায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে, অর্থাৎ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়নের কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু গাছ সরিয়ে অন্যত্র লাগানো হয়েছে। গাছগুলোকে কোনোভাবেই নিধন করা হয়নি। বরং গাছগুলো সরিয়ে লাগানোর পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে আরও নতুন ও বড় গাছের চারা রোপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্মাণকাজের দোহাই দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপে ৫০টির বেশি গাছ কেটেছে।

আরটিভি/টিআর