images

ক্যাম্পাস / শিক্ষা

আবাসন সংকটে ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০৪ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আবাসন সংকট বিরাজ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হলসহ মোট চারটি আবাসিক হল রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে আবাসিক হল ও আসনসংখ্যা বাড়েনি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১,৯২০টি, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। অর্থাৎ প্রতি ৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১টি আবাসিক আসন।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনো হল-সুবিধার বাইরে থেকে মেস কিংবা ভাড়া বাসায় উচ্চ ব্যয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আবাসিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে হলে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।

আরও পড়ুন
Lpy

‘পাঁচ সেকেন্ডেই সব শেষ’, সেই মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন রুমমেট

বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া বসরী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দিলারা ইসলাম বলেন, চারজনের একটি কক্ষে আটজনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। প্রতিটি সিঙ্গেল বেডে দুজন করে থাকতে হচ্ছে এবং একটি টেবিলও দুজনকে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আমরা চরম চাপে থাকি।

শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফুল বলেন, হলে আসন না পাওয়ায় অনেককে ক্যাম্পাস থেকে দূরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দূরে বসবাসের কারণে সময় নষ্ট হওয়ায় শিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রভোস্ট শারমিন আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক দ্রুত বেড়েছে। ফলে আবাসন সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। হলের আসন বৃদ্ধি ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। আমরা আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এটি সমাধানের জন্য আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন কতটি আবাসিক হল নির্মাণ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। তবে আবাসন সংকট নিরসনে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণ, বিদ্যমান হলগুলোর আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকটের কার্যকর সমাধান হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

আরটিভি/এসআর