বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক অভিযোগে আরও চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ ও বিশ্বব্যাংক-ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সিন্ডিকেট সভায় শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সভায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনকে ওই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না তা পর্যালোচনার জন্য প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফা, পি.ইঞ্জ.-কে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে