images

ক্যাম্পাস

পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবককে প্রতারক চক্রের ফোন, অতঃপর...  

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫২ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই কৌশলে আরও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিষয়টি যাচাই করায় প্রতারণার শিকার হননি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা অভিভাবকদের ফোন করছেন। নিজেদের পুলিশ বা ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের আটক করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি ৩০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিডটার্ম পরীক্ষা দেওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এ সময় তাঁর বাবাকে ফোন করে প্রতারকেরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, মাদকসহ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

পরদিন ৩০ জুলাই একই কৌশলে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করা হয়। শিক্ষার্থীকে আটকের কথা বলে তাঁর কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

একই দিন আরেক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ফোন করে প্রতারকেরা জানায়, তাঁর মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখানোর পাশাপাশি ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দও শোনানো হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়।

তবে আগের প্রতারণার ঘটনার বিষয়ে জানার কারণে ওই অভিভাবক টাকা পাঠাননি। পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করলে প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবার ও পরিচিতজনকে এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার একটি নতুন কৌশল। কোনো ফোনকল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠাবেন না। আগে পরিচয় ও তথ্য যাচাই করুন। সন্দেহজনক কোনো ফোনকল পেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।

আরটিভি/টিআর