রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ০১:০৬ পিএম
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে গবেষণানির্ভর নীতি প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিদেশে পাঠানো থেকে শুরু করে দেশে ফিরে পুনর্বাসন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় একাডেমিয়া, সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর সিআরডাপ (CIRDAP) মিলনায়তনে ডিআইইউর সেন্টার ফর মাইগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট (সিএমআরডি) আয়োজিত ‘মাইগ্রেশন ইন অ্যান এজ অব ক্লোজিং ডোরস: স্কিলস, ডেস্টিনেশন ডাইভারসিফিকেশন অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও আরও শক্তিশালী হবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী অভিবাসন নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই কার্যকর ও টেকসই কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে নতুন গন্তব্য দেশ খুঁজে বের করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্লামেন্টারিয়ানস ককাস অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই। তিনি অভিবাসন খাতে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য বাজেট বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতাভিত্তিক শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ উন্নয়নই ভবিষ্যতের অভিবাসনের প্রধান ভিত্তি হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিএমআরডির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল আলম। তিনি বলেন, গবেষণাভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। এ সময় তিনি অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা, নীতি সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সিএমআরডির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
বিসিজিডির সিনিয়র ফেলো তাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা নিরাপদ অভিবাসন, নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিআইইউর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র সাহা, ওয়ার্বি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাইফুল হক ও উপ-পরিচালক মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন, ওকুপের চেয়ারম্যান শাকিলুল ইসলাম, বমসার নির্বাহী পরিচালক শেখ রুমানা, বাস্তবের রঞ্জিত সি. দাস, বিজিএসডির নাসরিন আক্তার দিনা, এনডিডব্লিউডব্লিউ-এর সাধারণ সম্পাদক মুরশিদা আক্তার, বিএনডব্লিউএলএর অ্যাডভোকেট ফেরদৌস, বাইরার সাবেক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ নিস্তার কবির, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী শেখ ফরিদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আনাস আনসার, ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়কারী শাকিল আখতার চৌধুরী, বিএনএসকের পরিচালক শেখ রজবুল হক, বিএফটিইউই-এর পুলক রঞ্জন ধর, ডিআইইউর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুজ্জামান এবং আইএমএ আরএফ-এর নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান খান।
সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডিআইইউর সেন্টার ফর রিসার্চ, এক্সিলেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ক্রেড)-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান।
আরটিভি/জেএমএ