মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২৩ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিনব্যাপী আয়োজিত শাখা ছাত্রশিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নেতৃবৃন্দের ছবি অপসারণের দাবিতে আপত্তি জানিয়ে ছাত্রদল বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। এ সময় বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার ও মুরসালিন আহত হন। এছাড়া ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বেরোবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা একটি কর্মসূচির আয়োজন করেছি। একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল আপত্তি তোলে। তারা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করতে আসে এবং আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা সবকিছু সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তার দায় ছাত্রদলকে নিতে হবে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি-সংবলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই ব্যানার সরানোর দাবি জানালে শিবিরের পক্ষ থেকে তাদের ওপর হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল আপত্তি তোলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত বাকবিতণ্ডা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উসকানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আজকের ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। বিশেষ করে যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করব এবং তারা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/টিআর