images

ক্যাম্পাস

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারি

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০১:৫৮ পিএম

ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মঙ্গলবার হতে ক্যাম্পাসে অতিথি অথবা দর্শনার্থী, বাই-সাইকেল, মটর সাইকেল, রিক্সা, প্রাইভেট কারসহ সকল প্রকার যানবাহন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে তিনি রংপুরের তাজহাট থানার ওসি বরাবার লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তারা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার একই স্থানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণার কারণে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন
SCHOOL-NDS-COLLEGE

৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি ঘোষণা

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিনব্যাপী আয়োজিত শাখা ছাত্রশিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নেতৃবৃন্দের ছবি অপসারণের দাবিতে আপত্তি জানিয়ে ছাত্রদল বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। এ সময় বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব দাবি করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচি আয়োজন করেছিলেন। ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিন অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানালে শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন।

আরটিভি/টিআর