মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম
গবেষণা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এমনটাই বলেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ৮ম উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি গবেষণা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ভারতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ডিআইইউর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, করপোরেট সংযোগ, সমাবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির ডিআইইউ সংবাদদাতা নুর ইসলাম।
আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এই সময়ে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল? আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?
উপাচার্য: সরকার আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে আমি এখানে শিক্ষকতা করেছি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তবে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। আমার লক্ষ্য, শিক্ষা ও গবেষণায় ডিআইইউ যেন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এটি আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? এগুলো শিক্ষার মান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখবে?
উপাচার্য: অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে আটতলা একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে। কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হলেও খুব শিগ্গিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান ভবনেও শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ভবনটি চালু হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি ডাটা সায়েন্সসহ নতুন দুটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তুলতে বিদেশি ভাষার স্বল্পমেয়াদি কোর্সও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নেই এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।
আরটিভি: গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আপনার প্রশাসন কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?
উপাচার্য: বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। তাই গবেষণাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির আওতাধীন বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, গবেষণা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
আরটিভি: দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উপাচার্য: আমরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছি। যৌথ গবেষণা, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক পরিসরে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শিক্ষার মান উন্নয়ন, নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি: সরকারি, বেসরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব জোরদারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
উপাচার্য: সরকারি, বেসরকারি এবং করপোরেট খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতোমধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সফরে অংশ নিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি কতদূর? শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ সমাবর্তনের আশা করতে পারেন?
উপাচার্য: আমরা চলতি বছরের মধ্যেই সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?
উপাচার্য: শিক্ষার্থীরাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি চাই, তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ধারণ করে তারা যেন দেশ ও সমাজের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি শিক্ষার্থীদের বলব— নিজেদের স্বপ্নকে বড় করে দেখো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলো, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ তোমাদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একটি আধুনিক, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গবেষণাবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরটিভি/এসএস