মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৫০ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গলা কাটা অবস্থায় একটি বিড়ালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) সকালে মোকাররম ভবনের ফার্মেসি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে বিড়ালটির মরদেহ দেখতে পান ভবনের এক কর্মচারী।
এক শিক্ষার্থী জানান, ভবনের পেছনের ল্যাবসংলগ্ন সিঁড়িতে বিড়ালটির মরদেহ পড়ে ছিল। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেটি পলিথিনে মুড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। এছাড়া ভবনের কয়েকটি অংশ এখনো ক্যামেরার আওতার বাইরে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের আশপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের ধারণা, বিড়ালটিকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর ভবনের নিচতলাসহ আশপাশের এলাকায় রক্তের দাগ বা অন্য কোনো আলামত খুঁজে দেখা হলেও কিছু পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব আসিক বলেন, একটি নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কীভাবে কেউ করতে পারে, তা ভাবতেই কষ্ট হয়। এটি মানসিক বিকারের পরিচয় বহন করে। ঘটনাস্থলে কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগের বিষয়।
প্রাণীদের চিকিৎসা ও কল্যাণে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠন ‘কেয়ার ডিইউ’-এর প্রধান নির্বাহী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগেও আমরা ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির সহাবস্থানের একটি নিরাপদ ও মানবিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক। সে লক্ষ্যেই আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে জানান, বিড়ালটির প্রতি সহিংসতার ঘটনাটি তার জানা ছিল না।
ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো দৃষ্টিকটু ও অবিবেচনাপ্রসূত ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। এমন ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা প্রত্যক্ষভাবে জানা গেলে কিংবা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে