বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:২১ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমাদের ভেতরের বিভেদ দেখেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসছে। তাই জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিকের এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা বিভাজন সৃষ্টি করে বা জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার পুনরুত্থানের সুযোগ যেন আমরা সৃষ্টি না করি। আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেই ফ্যাসিবাদীরা মুচকি হাসে। তাই ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ফ্যাসিবাদ কখনো ফিরে আসবে না। ভবিষ্যতেও যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের ত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়। আজ (৫ আগস্ট) আহত জুলাই যোদ্ধাদের বক্তব্যে যে প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠা ফুটে উঠেছে, তা আমাদের সবার উপলব্ধি করা উচিত। ঐক্য, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।
জুলাই আন্দোলনের অংশীদারত্বের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আছেন, সবাই জুলাইয়ের অংশীদার। কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠন জুলাইয়ের একমাত্র দাবিদার নয়।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হয়। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সিনেট ভবনে জুলাই আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধন করেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।
পরে সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষক, আবাসিক শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা ও বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক শিল্পশিবিরের উদ্বোধন করা হয়।
এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ