বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ , ০৫:০১ পিএম
ভারতের প্রখ্যাত গায়ক জুবিন গর্গের জন্মদিন ছিল ১৮ নভেম্বর। মাত্র দুই মাস আগে সিঙ্গাপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন আগে, এক পডকাস্টে জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছিলেন এই সংগীতজ্ঞ। তার শৈশব, সংগীতপ্রেম এবং জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে রেখে গেছেন অমূল্য স্মৃতিরূপে।
জুবিন গর্গের বাবা ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাবার কর্মস্থল বদলের কারণে তার শৈশবটি কাটে মফস্বল অঞ্চলে। আসামের করিমগঞ্জ শহরে তিনি এবং তার পরিবার বসবাস করতেন, যেখানে নানা সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং উপভোগ্য টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছিল তার জীবনের অংশ। বিশেষ করে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সম্প্রচারিত সিরিয়ালগুলো দেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তখনকার সময়ের জনপ্রিয় ‘স্পাইডারম্যান’ ও ‘টারজান’ সিরিয়ালগুলো তিনি নিয়মিত দেখতেন, যা তার শৈশবকে করেছে আরও রঙিন।
জুবিনের মা ছিলেন এক অভিজ্ঞ সংগীতশিল্পী এবং মায়ের কাছেই তিনি গানের হাতে খড়ি লাভ করেন। তার সংগীত প্রতিভা এবং অসামান্য কণ্ঠস্বর তাকে শুধু আসাম নয়, বরং ভারতের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৯২ সালে প্রথম অসমিয়া অ্যালবাম ‘অনামিকা’ প্রকাশের পর তার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি প্রায় ৩৮ হাজার গান গেয়ে নিজের স্থান প্রতিষ্ঠা করেন সঙ্গীত জগতে।
২০০৬ সালে ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানটি তাকে এনে দেয় জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতি। একাধারে সংগীতশিল্পী, সংগীত পরিচালক এবং সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তার অবদান এবং অর্জনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ইকোজ অব সাইলেন্স’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ, যেখানে তিনি সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে পুরস্কৃত হন।
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মৃত্যু হয় এই কিংবদন্তির। তার মৃত্যুতে ভারতের সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় শোকের পর তার মরদেহ দাহ করা হয়।
আরটিভি/কেআই