মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:২২ পিএম
বলিউডের কিংবদন্তি জুটি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেম এবং বিয়ে আজও বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক বছর কেটে গেলেও এই জুটি এখনও দর্শকদের মনে জীবন্ত, যেন এক পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার মতো। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর এই কিংবদন্তি প্রেম কাহিনী আবারও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে, এই সম্পর্কের যে অজানা অধ্যায় অনেকেই জানেন না, তা প্রকাশ পেয়েছে হেমা মালিনীর আত্মজীবনী ‘হেমা মালিনী: বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’-এ। খবর বলিউড শাদিসের।
হেমা মালিনী তার বইয়ে লিখেছেন, প্রথমবার ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তার অনুভূতি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে যাওয়ার সময় শশী কাপুরকে পাঞ্জাবিতে ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, মেয়েটা খুব সুন্দর। ঠিক তখনই তাকে পরিচয় করানো হয় রাজ কাপুরের ‘ড্রিম গার্ল’ হিসেবে। দুই সুপারস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে হেমা অত্যন্ত নার্ভাস ও অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন, যেটি পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের শুরুর একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
১৯৭০ সালে তাদের আবার দেখা হয় ছবির সেটে, যেখানে ধর্মেন্দ্র তখন সানি ও ববি দেওলের বাবা। হেমা মালিনী নিজে বলেছিলেন, ধর্মেন্দ্রকে দেখেই বুঝেছিলাম, এমন একজন মানুষই আমার জীবনের সঙ্গী হওয়া উচিত। এরপর তাদের সম্পর্কের শুরু হয়। তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসেন। দুই সুপারস্টারের রসায়ন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকালীন জায়গা করে নেয়। তাদের একসঙ্গে কাজ করা ৪২টি ছবিতে যেমন শোলে, সীতা অউর গীতা, নসীব, আন্ধা কানুন- সবই দর্শকদের কাছে একটি চিরন্তন মাইলফলক হয়ে আছে।
ধর্মেন্দ্র ১৯৫৭ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। কিন্তু হেমা মালিনীর সঙ্গে তার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকলে একসময় শোরগোল ওঠে। ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে অভিনেত্রী অনীতা রাজের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়। বিষয়টি জানার পর হেমা আঘাত পান এবং ধর্মেন্দ্রকে সতর্ক করেন। এই সম্পর্কের কারণে তার সংসারে সমস্যা তৈরি হয়, তবে শেষমেশ ধর্মেন্দ্র ও অনীতা রাজের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অনীতা রাজ পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে পরিচালক সুনীল হিঙ্গোরানিকে বিয়ে করেন।
ধর্মেন্দ্র ও হেমার মধ্যে প্রেম পাঁচ বছর চলার পরও বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের একাগ্রতা এবং হেমার পরিবারে দ্বিধা। আইনি জটিলতার কারণে, হিন্দু আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে, তাদের সম্পর্ক আরেক দফা মোড় নেয় যখন ধর্মেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম রাখেন দিলাওয়ার খান। হেমাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নাম হয় আইশা। গোপনে দুজন সাক্ষী রেখে ১৯৮০ সালে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে দক্ষিণ ভারতীয় রীতি মেনে আরেকটি অনুষ্ঠানও হয়।
১৯৮১ সালে হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর প্রথম সন্তান এশা দেওল জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৫ সালে তাদের দ্বিতীয় কন্যা আহানা দেওল জন্ম নেন। ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ধর্মেন্দ্র হয়তো নিখুঁত স্বামী নন, কিন্তু তিনি একজন অসাধারণ বাবা।
প্রকাশ কৌর কখনো হেমাকে দোষারোপ করেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, যদি নিজে হেমার জায়গায় থাকতেন, তবে তার মতো কাজ করতেন না। তিনি জানতেন, হেমাকে পরিবার এবং সমাজের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়, যা এক একজন স্ত্রী ও মা হিসেবে সহজ ছিল না।
ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্ক ছিল এক নিখুঁত প্রেমের গল্প, যেখানে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। বলিউডের সুপারস্টারদের জীবন শুধু সিনেমার চিত্রপটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের অনুভূতিও ছিল খুবই মানবিক এবং বাস্তব।
আরটিভি/কেআই