মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ১২:০০ পিএম
এখন থেকে প্রতি সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে আরটিভিতে প্রচারিত হবে নতুন ধারাবাহিক নাটক 'অতি চালাক ফ্যামিলি'।
নাটকটি রচনা করেছেন আল আমিন স্বপন এবং পরিচালনা করেছেন তাইফুর জাহান আশিক।
অভিনয়ে: তন্ময় সোহেল, স্পর্শিয়া মীম, আশরাফ সুপ্ত, রেজমিন সেতু, সাদ্দাম মাল, আব্দুল্লাহ রানা, মাসুম বাশার, আশরাফুল আলম সোহাগ, আলিফ চৌধুরী, সাইকা আহমেদ প্রমুখ।
গল্প সংক্ষেপ
গ্রামের মানুষ সাধারণত সহজ-সরল হয়। তারা বেশি প্যাঁচগোচ বোঝে না, দিন আনে দিন খায় এবং অল্পতেই সুখে থাকতে জানে। বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামের মানুষের জীবন এমনই সরল। তবে সব পরিবার এক রকম নয়। কিছু পরিবার আছে যারা এই সহজ-সরল মানুষদের সুযোগ নিয়ে নানা কৌশলে তাদের ঠকায়।
সুজনকাঠী গ্রামের তালুকদার পরিবার ঠিক তেমনই একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্যরা প্রায় সবাই মানুষের সঙ্গে নানা ধরনের চালাকি করে। কখনো কৌশলে কারও জমি লিখে নেয়, কখনো কোনো পরিবারে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়। আবার কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, কারও বাড়িতে আগুন লাগানো, কারও ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা কিংবা পুকুরের মাছ মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটায় তারা। মোটকথা, নানাভাবে মানুষকে বিপদে ফেলে সুবিধা নেওয়াই তাদের স্বভাব।
তালুকদার পরিবারের প্রধান মতি তালুকদার। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং তাদেরও সুজনকাঠী গ্রামেই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। আরেক মেয়ে এখনো অবিবাহিত, সে বাড়িতেই থাকে। তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিবাহিত এবং তারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতেই বসবাস করে। ছোট ছেলে অবিবাহিত, সে সব সময় বাবার সঙ্গেই থাকে।
মতি তালুকদারের ছেলে-মেয়ে ও জামাইরা প্রায়ই গ্রামের মানুষদের নানা ঝামেলায় ফেলে। সহজ-সরল গ্রামবাসীকে তারা বিভিন্ন কৌশলে ঠকিয়ে থাকে।
তালুকদার পরিবারের কিছু পারিবারিক ব্যবসাও রয়েছে। একটি মুদি দোকান আছে, যেখানে চাল-ডাল, চা, বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করা হয়। দোকানটি দেখাশোনা করে পরিবারের বড় ছেলে। তবে সে দোকানে বসেও নানা কৌশলে মানুষকে ঠকায়— ওজনে কম দেওয়া, টাকার হিসাব গড়মিল করা কিংবা ভালো টাকাকে জাল বলে দাবি করা— এসবই তার নিত্যদিনের কাজ।
তালুকদার বাড়িতে দুটি গরু রয়েছে, যেগুলোর দুধ বাজারে বিক্রি করা হয়। কিন্তু দুধের সঙ্গে সমান পরিমাণ পানি মিশিয়ে তা বিক্রি করে মেজো ছেলে। ফলে পাঁচ কেজি দুধে প্রায় পাঁচ কেজি পানি মিশিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের মেয়েরা কোনো ব্যবসা করে না, তবে প্রেমের বিষয়ে তাদের আলাদা কৌশল আছে। যে ছেলেই প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তাকে সহজেই সম্মতি দেয় তারা। তবে একটি শর্ত থাকে—প্রেম করতে হলে ‘প্রেমের কাবিন’ হিসেবে দিতে হবে এক লাখ টাকা। যার টাকা আছে সে প্রেম করতে পারে, আর যার নেই তার কোনো সুযোগ নেই। ফলে তালুকদার পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণই নিঃস্ব হয়ে যায়।
_20260310_115954104.png)
শুধু বাইরের মানুষের সঙ্গেই নয়, নিজের ভাই-বোনদের সঙ্গেও চালাকি করেছে মতি তালুকদার। নানা কৌশলে নিজের ভাইবোনদের সম্পত্তিও সে নিজের নামে লিখে নিয়েছে। পরে তারা সম্পত্তি চাইতে এলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং ছেলে ও জামাইদের দিয়ে মারধর পর্যন্ত করায়।
তবে তালুকদার পরিবারের সদস্যরা শুধু অন্যদের সঙ্গেই চালাকি করে না, নিজেদের মধ্যেও নানা কৌশল চালায়। ছেলেবউরা কেউ কোনো কাজ করতে চায় না; একজনের কাজ আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেয়। অন্যদিকে ছেলেরা সব সময় বাবার প্রিয়ভাজন হয়ে থাকতে চায়, কারণ মতি তালুকদারের রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। প্রত্যেকেই সেই সম্পত্তির ভাগ পেতে আগ্রহী।
পরিবারের ভেতরে ঝামেলা হলে তারা একে অন্যকে চিনতে চায় না। কিন্তু বাইরের কারও সঙ্গে সমস্যা তৈরি হলে পুরো তালুকদার পরিবার এক হয়ে যায় এবং মতি তালুকদারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।
এভাবে মানুষকে প্রতারণা করতে করতে এক সময় গ্রামবাসী তালুকদার পরিবারের ওপর বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। কিন্তু তালুকদার পরিবার আবারও কৌশল করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের ঐক্য ভেঙে দেয়।

তালুকদার পরিবারের এই অতি চালাকি এবং নানা কৌতুকপূর্ণ ঘটনাকে ঘিরেই হাস্যরসাত্মকভাবে এগিয়ে চলে ধারাবাহিক নাটক ‘অতি চালাক ফ্যামিলি’।
আরটিভি/এমএইচজে