বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ০১:০৯ পিএম
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা শামস সুমনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে শেষ তিন ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ছিল নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক।
বিকেল প্রায় পৌনে ৪টার দিকে অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কলে শামস সুমনের সঙ্গে কথা বলেন। তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। আজাদ তাকে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে লোক পাঠানোর কথাও জানান। তবে শামস সুমন নিজেই হাসপাতালে যাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
বিকেল ৫টার কিছু পর রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে পৌঁছে আশ্চর্যজনকভাবে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন নিজে হেঁটে চলাফেরা করেছেন, কথা বলেছেন সবার সঙ্গে। সহকর্মী মাসুদ রানা মিঠু জানান, এমআরআই শেষে তিনি নিজেই হেঁটে বের হয়ে আসেন এবং উপস্থিতদের দিকে তাকিয়ে হাসেন। তখন কেউ বুঝতেই পারেননি সামনে এমন বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
কিন্তু এমআরআই শেষে পোশাক পরিবর্তনের সময় আচমকাই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। কাতর কণ্ঠে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালান। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টই ছিল মৃত্যুর কারণ।
জীবনের শেষ সময়টাও তার জন্য সহজ ছিল না। শারীরিক অসুস্থতা, কাজ থেকে দূরে থাকা এবং ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে রেখেছিল। পরিবার দেশের বাইরে থাকায় অনেকটা একাই সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। তবুও আবার ক্যামেরার সামনে ফেরার ইচ্ছা ছিল প্রবল যা অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন এই গুণী অভিনেতা।
তার এই অকাল প্রয়াণে সহকর্মী, ভক্ত এবং পুরো সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
আরটিভি/এসকে