শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৩৬ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুর পড়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। ভিডিওটি ঘিরে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।
অভিনেত্রী জয়া আহসান, যিনি প্রাণী অধিকার নিয়ে বরাবরই সোচ্চার, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন— একজনের বিনোদন বা কনটেন্ট তৈরির জন্য একটি প্রাণীর এমন নির্মম মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অভিনেত্রী দীপা খন্দকার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে ‘ভয়ানক’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, দেশ খারাপ নয়, মানুষের আচরণই সমস্যার মূল। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি সমাজের মানসিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
গায়ক তানজীব সারোয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, কুকুরটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের ওপর আস্থা রেখেছিল। তার ভাষায়, এখানে কুমিরের দোষ নেই; দোষ মানুষের নিষ্ঠুরতায়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা নিলয় আলমগীরও। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক অং রাখাইন হতাশা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজের মানবিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল?
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বর্ণনা পুরোপুরি সঠিক নয়। মাজারসংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তারের দাবি, কুকুরটি আগে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। পরে কোনোভাবে পানিতে পড়ে গেলে কুমির সেটিকে ধরে নেয়।
নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি তার ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করলে আত্মরক্ষার চেষ্টায় সেটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর দিঘিতে থাকা কুমির কুকুরটিকে টেনে নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ সময় কুকুরের আঁচড়ে আহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চিকিৎসাও নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এর ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রাণী অধিকার, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরটিভি/এমএইচজে