images

বিনোদন / ঢালিউড

‘বাংলাদেশে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি’ 

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩০ পিএম

অবশেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কাজ করার গুঞ্জন থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশের বড় পর্দায় দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে।

জানা গেছে, ডেডবডি, কিল হিম ও রিভেঞ্জখ্যাত নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবালের নতুন সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন মধুমিতা। যদিও সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী।

কলকাতা থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মধুমিতা বলেন, আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। অনেক বছর ধরেই বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশে আসছি।

তিনি জানান, কিছুদিন আগেই সিনেমাটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে জানার পরই কাজটি করতে আগ্রহী হন।

আরও পড়ুন
Web-Image

কান ধরে উঠবস করে জেন-জির কাছে ক্ষমা চাইলেন সোনাক্ষী

মধুমিতার ভাষায়, গল্পটি দারুণ। চরিত্রটিও আমার খুব পছন্দ হয়েছে। কলকাতায় অনেক ধরনের কাজ করলেও এমন চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করিনি। চরিত্রটিতে অনেক স্তর রয়েছে, তাই কাজটি নিয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।

জানা গেছে, গুলশানের চামেলি নির্মিত হচ্ছে রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার শিকার হন। সিনেমাটিতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক থাকছে না; পুরো গল্প আবর্তিত হবে একজন নারীকে ঘিরে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। তবে মধুমিতার সঙ্গে আর কোন কোন অভিনয়শিল্পী থাকছেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশে আসা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, কলকাতার বাইরে বাংলাদেশে আমার অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকের সময় থেকেই সেটা অনুভব করেছি। আজ আমি যতটুকু ভালোবাসা পেয়েছি, তার বড় একটি অংশ বাংলাদেশের দর্শকদের কাছ থেকে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশে এসে সবার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি।

বাংলাদেশের নাটক, সিনেমা ও ওয়েবনির্ভর কাজও নিয়মিত দেখেন বলে জানান মধুমিতা। তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পিপড়াবিদ্যা, টেলিভিশন ও থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার, পাশাপাশি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’।

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গল্প বলার ধরন আমার খুব ভালো লাগে। মোশাররফ করিম আমার পছন্দের অভিনেতা, তার সঙ্গে কাজও করেছি। চঞ্চল চৌধুরীও আমার খুব প্রিয়। সুযোগ পেলে তার সঙ্গে কাজ করতে চাই। আর শাকিব খান তো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। সুযোগ হলে তার সঙ্গেও কাজ করতে চাই।

ছোট পর্দা ও বড় পর্দা—দুই মাধ্যমেই জনপ্রিয় মধুমিতা সরকার। বোঝে না সে বোঝে না, কেয়ার করি না এবং চিনিসহ একাধিক কাজের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও পরিচিত মুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে একটি বাংলাদেশি নাটকে অভিনয় করলেও ‘গুলশানের চামেলি’-ই হতে যাচ্ছে ঢাকাই চলচ্চিত্রে মধুমিতা সরকারের প্রথম সিনেমা।


আরটিভি/জেএমএ