বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫ , ০৬:১৬ পিএম
ময়মনসিংহে হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি। সত্যজিতের পূর্বপুরুষের এই বাড়ি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেটাই এবার ভাঙা হচ্ছে। যদিও এটিই সত্যজিত রায়ের পৈতৃক বাড়ি কি না তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। এরইমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি আসলে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি নয়।
এই ঘটনা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এক্স হ্যান্ডলে মমতা লিখেছেন, ঐতিহাসিক এই বাড়িকে ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য মোদি সরকারের কাছেও আবেদন জানান তিনি।
এবার বলিউডের প্রভাবশালী টেলিভিশন অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। অভিনেত্রী অত্যন্ত বিরক্তি নিয়ে টুইট করেছেন, এই বাড়িটা ভেঙে এই বার্তা দিল যে, ওরা শিল্পকে ভয় পায়। হিংসায় উস্কানি দেয়। এই কাজ ওদের মুখোশ খুলে দিল। অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছি এই ঘটনায়।
রূপালি এই মন্তব্য করার পর বলিউডের অনেকে তার সমর্থনে কথা বলতে শুরু করেছেন।
সত্যজিত্ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আগে একবার শুনেছিলেন এই বাড়ি সারিয়ে ঠিক করা হবে। তবে হঠাত্ জানতে পেরেছেন বাড়িটা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সুকুমার রায়ের উপর তথ্যচিত্র করার সময়ে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিত্ রায় ভেবেছিলেন বাংলাদেশে গিয়ে সেই বাড়িতে শুটিং করবেন। সেই কারণে বাড়িটির ছবি তুলে আনা হয়েছিল। তবে এমনই ভগ্নদশা ছিল যে, শেষ অবধি সেই বাড়িতে শুটিং করা যায়নি।
হরিকিশোর রায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর মসূয়ার জমিদার। তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ।
আরটিভি/এএ