সোমবার, ১৮ আগস্ট ২০২৫ , ০৫:১০ পিএম
বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিয়া ভাই’খ্যাত নায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) জন্মদিন রোববার (১৮ আগস্ট)। ২০২৩ সালের ১৫ মে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। বেঁচে থাকলে আজ ৭৭ বছরে পা রাখতেন এই অভিনেতা।
১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। তার বাবা আজগার হোসেন পাঠান। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক। ফারুক ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে আবারও সিনেমায় নিয়মিত হয়ে পড়েন। হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় ‘মিয়া ভাই’। মিয়া ভাই নামে একটি সিনেমাও করেছিলেন তিনি।

‘লাঠিয়াল’ নামেও একটি সিনেমা আছে তার অভিনীত। ‘সারেং বৌ’ সিনেমার সারেং তিনি; ‘সুজন সখী’ সিনেমার সুজন। এভাবে কতই না মনে রাখার মতো সিনেমায় অভিনয় করে বাঙালির ঘরে ঘরে নায়ক হিসেবে পৌঁছে গেছেন ফারুক। তার অভিনীত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ একটি স্মরণীয় সিনেমা। আলোর মিছিল, নয়নমণি, দিন যায় কথা থাকে, সখী তুমি কার, কথা দিলাম, সূর্য গ্রহণ এ রকম অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
ফারুক তার অভিনয়ের জন্য ১৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তার হাতে পুরস্কার উঠেছিল কেবল একবার। অবশ্য ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। তার অভিনীত শতাধিক সিনেমার সিংহভাগই ব্যবসাসফল। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অভিনয়ের বাইরে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।

এই অভিনেতার মৃত্যুর দুবছরের প্রতিটি দিন তার দুই ছেলেমেয়ে ফারিহা তাবাচ্ছুম পাঠান তুলসী ও ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরতের কাছে হাজির হয়েছে ‘বিশাল শূন্যতা’ নিয়ে।

নায়ক ফারুকের ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ মনে করেন, বাবা থাকা অবস্থায় জীবন নিয়ে যে সহজ সরলতা আর চিন্তামুক্ত দিনগুলো তিনি পার করেছেন, তা এখন আর নেই।
শরৎ বলেন, বাবাকে প্রতি মুহূর্তে মনে পড়ে, জীবনের যত সুখ, দুঃখ ও ঝামেলা যাক না কেন বাবাকে ভুলে থাকা অসম্ভব। চেষ্টা করি মনে না করতে, কারণ মনে করলেই মনটা ভেঙে যায়।

তিনি আরও বলেন, বাবা থাকা অবস্থায় কোনো চিন্তা ছিল না জীবনে, চিন্তা ছাড়া জীবন কাটিয়েছি। এখন সব কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয়। ডানে গেলেও চিন্তা করতে হয়, বামে গেলেও চিন্তা করতে হয়। আমার মনে হয় মানুষের জীবনে বাবার যে ভূমিকা সেটা বাবা না থাকলে মানুষ বেশি অনুভব করেন।
প্রসঙ্গত, ফারুক-কবরী, ফারুক-ববিতা জুটি সময়ে সাথে সাথে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেয় দর্শক মনে। বিশেষ করে ববিতা-ফারুক জুটিই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়।

এ ছাড়া শাবানা, রোজিনা, সুচরিতা, অঞ্জু ঘোষ, অঞ্জনাও ফারুকের নায়িকা হয়েছেন বিভিন্ন সিনেমায়।
মুক্তিযুদ্ধের দুই সিনেমা ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং আলোর মিছিল’-এ ফারুক মূল ভূমিকায় না থাকলেও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই দুটি কাজকে তার টার্নিং পয়েন্ট ধরা হয়।
গ্রামের বেকার যুবক, পরিশ্রমী কৃষক, ট্রাকচালক, ট্রেনচালক, ইত্যাদি চরিত্রের মাধ্যমে তিনি সাধারণ দর্শকের মনের নায়কে পরিণত হন। করেছেন বাণিজ্যিক সিনেসাও, এবং সেগুলো সফলও হয়েছিল।
তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা মো. নাসির উদ্দিন ও আওলাদ হোসেনের 'মনে রেখ আমায়' মুক্তি পায় ২০০১ সালে।
আরটিভি/এএ/এস