images

সিনেমা / ঢালিউড

মৃত্যুর আগের দিন সামিরা রুমে ঢুকেই দেখেন সালমান-শাবনূর একসঙ্গে 

সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ , ০২:১৬ পিএম

ঢাকাই সিনেমার দর্শকপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ ২৯ বছরের তদন্তের পর নতুন করে হত্যা মামলার দায়ের করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর রমনা থানায় দায়ের হওয়া এই মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি এবং চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

ঢালিউডের এই কিংবদন্তির অকালমৃত্যুর রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি। মৃত্যুর আগের দিন তিনি কিভাবে কাটিয়েছেন, তা নিয়ে রয়েছে দর্শকের মনে অসংখ্য প্রশ্ন।

সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। সেদিন ছিল শুক্রবার। সালমান সারা দিনই ব্যস্ত ছিলেন নতুন ছবি প্রেম পিয়াসীর ডাবিং নিয়ে। কাজ চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে।

আরও পড়ুন
Web_Image

ভিগো, ট্যাঙ্গো থেকে যেভাবে পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়েন তারা

সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শাবনূর। শুটিং স্পটজুড়ে ছিল হাসিঠাট্টা আর খুনসুটিতে ভরা পরিবেশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরের দিকে সালমান শাহ বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন তার স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে। কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বশুর সামিরাকে নিয়ে উপস্থিত হন সাউন্ড কমপ্লেক্সে।

সেখানে ঢুকেই সামিরা দেখেন, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে মজা করছেন। 

সেই সময়ের বিনোদন পত্রিকাগুলোতে দুজনকে নিয়ে প্রকাশিত নানা গুঞ্জন ও লেখা সামিরার মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত এফডিসি থেকে বেরিয়ে আসেন।

সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সামিরা গাড়িতে ওঠেন, আর বিষয়টি বুঝতে পেরে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন।

কিন্তু পুরো পথেই সামিরা সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি। বাদল খন্দকার চেষ্টা করেও দুজনের মধ্যে কোনো কথা বলাতে পারেননি।

গাড়ি যখন এফডিসির মূল ফটকে পৌঁছায়, সালমান গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। বাদল খন্দকারও নামেন। দুজন কিছুক্ষণ আড্ডা দেন গেটের সামনে। তারপর সালমান আবার ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিন আর কাজ হয়নি।

রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমান শাহকে তার নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। তারপরই যেন সবকিছু থেমে যায়। পরদিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর।

আরও পড়ুন
Web_Image

সামিরার দোষ নেই, মানসিক চাপ ও হতাশাই সালমানকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল: ডন 

পরিচালক শাহ আলমসহ ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান ছিলেন প্রবল মানসিক চাপে। পারিবারিক টানাপড়েন, প্রযোজকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, এমনকি এক সময় শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞাও তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সালমান শাহ মাত্র চার বছরে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে তৈরি করেছিলেন এক অনন্য ইতিহাস। 

আরটিভি/এএ