বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২০ পিএম
বাংলা সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, গুণী গীতিকবি, সুরকার ও সংগীত পরিচালক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি)। ২০১৯ সালের এই দিনে ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বরেণ্য এই সংগীতজ্ঞ নিজ ভুবনে ডুবে থাকতেন সুর আর গান নিয়ে। এরমধ্যে কিছু দিন পর পর ফেসবুকে এসে নানা বিষয়ে কথা বলতেন। যার বেশিরভাগেই থাকত দেশ, মাটি, মানুষ আর মমতার কথা। তার সেই সহজ-সরল স্বীকারোক্তি, উক্তি অনেকেই অনুসরণ করতেন। মৃত্যুর আগে ২ জানুয়ারি তেমনই একটি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে নিজের একটি ছবি দিয়েছিলেন।
ক্যাপশনে তিনি লেখেন, আমাকে যেন ভুলে না যাও... তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।
সরকারের নির্দেশেই ২০১২-তে তাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। এই সাক্ষীর কারণে সে সময় তার ছোট ভাই মিরাজ খুন হয় বলে জানান। সরকারের কাছে বিচার চেয়েও সেই বিচার পাননি জানান তিনি। সেই সময় তার নিরাপত্তার কথা ভেবেই সরকার এই ব্যবস্থা করেন।
মৃত্যুর আগে ফেসবুকের একটি পোস্টে তিনি বলেন, একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।
১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বাবা ওয়াফিজ আহমেদ, মা ইফাদ আরা নাজিমুন নেসা। আজিমপুরের স্কুলে পড়াশোনার সময়ই শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লড়াই।
মাত্র সাড়ে ১৪ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। সেই কিশোর যোদ্ধাই পরবর্তীকালে দেশকে নিবেদিত অগণিত দেশাত্মবোধক গানের জন্ম দেন—যার প্রতিটিতেই ফুটে ওঠে স্মৃতি, বেদনা ও গর্ব।
১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবির মাধ্যমে সংগীত পরিচালনায় তার অভিষেক। তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে দেন তাকে ১৯৮৪ সালের ‘নয়নের আলো’। ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে থাকব’—এই গানগুলো হয়ে ওঠে প্রজন্মের সংগীত–স্মৃতি, বেদনা, প্রেম আর বিচ্ছেদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা।
তার উল্ল্যেখযোগ্য আরও কিছু গান হলো-‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেখ গো মালি’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’ ‘আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি’।
আরটিভি/এএ